বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
অসহায়দের বন্ধু মুরাদ খান ‌বিএনপি নেতা আলীমের মায়ের মৃত্যুতে স্থায়ী কমিটির সদস্য টুকুর শোক প্রকাশ সিরাজগঞ্জে বিএনপির উদ্যোগে বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মাঝে ত্রান বিতরণ সিরাজগঞ্জ জজকোর্টের সাবেক পিপি রেজাউল করিম তালুকদারের কবর যিয়ারত করে দোয়া করলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সিরাজগঞ্জ কামারখন্দে মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় ১ জন নারীর মৃত্যু কামারখন্দে ঈদের আনন্দ দিগুণ করতে ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত কামারখন্দে আউশ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত কোরবানীর বর্জ্য পরিশোধন অভিযানে মুরাদের বাবা কামারখন্দে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করলেন এমপি মুন্না সিরাজগঞ্জ অনলাইন স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম চলছে
উল্লাপাড়ায় সেরা জয়িতায় সংবর্ধিত হলো অজোপাড়া গায়ের শিক্ষা জননী মালেকা বেগম

উল্লাপাড়ায় সেরা জয়িতায় সংবর্ধিত হলো অজোপাড়া গায়ের শিক্ষা জননী মালেকা বেগম

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় ডেফলবাড়ি জ্ঞানের আলো শিক্ষালয়ের পরিচালক মোছাঃ মালেকা বেগমকে উল্লাপাড়া উপজেলায় সেরা জয়িতা নির্বাচিত করেছেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ। ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার বেগম রোকেয়া দিবসে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসারের কার্যালয়ের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক ভাবে মালেকা বেগমকে সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।উল্লাপাড়া জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ের কমিটির ব্যাপক প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে প্রাপ্য সকল আবেদন যাচাই ও মূল্যায়ন করে মালেকা বেগমের সকল তথ্যাদি যাচাই করে সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় ক্যাটাগরিতে উপজেলা পর্যায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত করেছেন।মালেকা বেগমকে সর্বশ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত করার জন্য যে সকল অবদান সমুহ মূল্যায়ন করা হয়েছে সেগুলো হলোঃ*অবদানের সামাজিক প্রভাবের বিবেচনায় মূল্যায়ন : ধর্মীয় চর্চা,সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্তমানবতার সেবা,এলাকার শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষাদান পত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রচার তাকে সামাজিক কর্মকান্ডের প্রভাব সম্পর্কে ধারনা দেয়।
*পারিবারিক পশ্চাদপদতার বিবেচনার অবদানের মূল্যায়ন : নিম্ন আয়ের বাবার ঘরে জন্ম। অতপর বাল্যকালেই বাবা মারা যাওয়া।নিম্ন আয়ের সংসারে বিয়ে হয়ে নানা প্রতিকুলতার মাঝেও সামাজিক উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য।
*নারীর আর্থিক অবস্থার বিবেচনায় অবদানের মূল্যায়ন : বর্তমানে তার আর্থিক অবস্থা কিছুটা ভালো।সে দারিদ্র পরিবারের গৃহবধু হয়েও তার যা প্রতিভা আছে তাই যথাযথ ভাবে কাজে লাগিয়েছে যা অনেক সচ্ছল পরিবারের গৃহবধুর পক্ষেও করা সম্ভব নয়।
*পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক সহায়তা বিবেচনায়া অবদানের মূল্যায়ন : পারিবারিক সাহায্য সহযোগিতা পেলে একজন নারী যে তার বিভিন্ন গুনের প্রকাশ ঘটাতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ মালেকা বেগম।তার স্বামী আব্দুল কাদের ও ছেলে আবুল হোসেনের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় ডেফলবাড়ি জ্ঞানের আলো শিক্ষালয়ের মাধ্যমে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়াই তার প্রমান।
*অন্যান্যদেরকে অনুপ্রাণিত করার বিবেচনায় অবদানের মূল্যায়ন : দারিদ্র পরিবারের গৃহবধু হয়েও তিনি তার প্রতিভা কাজে লাগিয়ে যেভাবে শিক্ষার আলো ছড়ানোর মাধ্যমে সমাজে অসামান্য অবদান রেখেছেন তা দেখে সামাজিক কর্মকান্ডে অন্যরাও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবে।
*সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বিবেচনায় অবদানের মূল্যায়ন : বাংলাদেশের গ্রামীন সমাজ ব্যবস্থায় প্রচন্ড প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও মালেকা বেগম একটি অজোপাড়া গায়ে জ্ঞানের আলো শিক্ষালয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন যাবত বিনামূল্যে যে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন তা সমাজে অসামান্য অবদান রেখেছেন যা তাকে অজোপাড়া গায়ের শিক্ষা জননী উপাধিতে ভুষিত করেছে।মালেকা বেগমের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়,তার জন্ম হয় বড়হর দক্ষিন পাড়া একটি দরিদ্র পরিবারে।তার বাবার নাম কুশা মৃধা ও মার নাম আঞ্জুয়ারা বেগম।ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ায় ভাই বোন বিহীন এতিম মালেকার পঞ্চম শ্রেনী পড়া শেষেই বিয়ে হয় ডেফলবাড়ি গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক আব্দুল কাদেরের সাথে।সেই থেকে ডেফলবাড়ি গ্রামেই তার অবস্থান।বিয়ের পরেই তিনি খেয়াল করেন ঐ গ্রামে কুরআন শিক্ষা দেয়ার মত কেউ নেই।তারপর স্বামী আব্দুল কাদের সাথে পরামর্শ করে পাড়ার শিশুদেরকে কুরআন শিক্ষা দেয়া শুরু করেন।তারপর অনেক বয়স্ক মহিলারাও তার কাছে দোয়া ও কুরআন শিখতে আসে। প্রায় ৩৬ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচেই ডেফলবাড়ি সহ এলাকার শিশু ও বয়স্কদের বিনামূল্য কুরআন ও হাদিস শিক্ষা দিয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছেন এই অজোপাড়া গায়ের শিক্ষাজননী মালেকা বেগম। বিগত ২০১০ সালে তার ছেলে বৃক্ষপ্রেমী আবুল হোসেন ডেফলবাড়ী জ্ঞানের আলো শিক্ষালয় নাম করন করে এই কার্যক্রম আরো ভালোভাবে চালিয়ে নিতে উৎসাহ দিয়ে আসছে।প্রথম দিকে শিশুদের কাছ থেকে কিছু মুষ্টির চাউল নিয়ে গ্রামের সামাজিক কাজে ব্যয় করলেও দরিদ্র শিশুদের কাছ থেকে চাউল না নেয়ার পরামর্শ দেন তার ছেলে আবুল হোসেন।মালেকার বিনা পিয়সায় শিক্ষাদানের পিছনে গ্রামের মানুষের তেমন কোনো সহযোগিতা নেই।এছাড়া সামাজিক বা সরকারিভাবেও কোনো সহযোগিতা পায়নি ।মালেকা বেগম তার ছেলে আবুল হোসেন ও স্বামী আব্দুল কাদেরের সার্বিক সহযোগিতায় ডেফলবাড়ী জ্ঞানের আলো শিক্ষালয় চালিয়ে যাচ্ছেন ।পারিবারিক আর্থিক সংকট ও সামাজিক নানা প্রতিকুলতা থাকা সত্ত্বেও কখনো মনোবল হারায়নি।তার এই প্রতিষ্ঠানটি একদিন সারা বিশ্বের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদী। আজীবন যেন এভাবেই বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে পারেন এমনটাই তার বড় চাওয়া।স্বামী ও সন্তান এবং গ্রামের মানুষদের নিয়ে আজীন ভালো থাকার ইচ্ছা এই অজোপাড়া গায়ের শিক্ষা জননী হিসাবে পরিচিত মালেকা বেগমের।৩৬ বছর বিনামূল্যে শিশুদের শিক্ষা দেয়ার পরে এই প্রথম উল্লাপাড়ার সেরা জয়িতা নির্বাচিত হয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন মালেকা বেগম।এছাড়া তিনি এই সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদানের জন্য উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।





© All rights reserved © 2018 somoybangladesh24.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com